১০ মাসের শিশুর ৩০ কেজি ওজন

সাধারন অন্যরকম খবর October 22, 2017 1,181
১০ মাসের শিশুর ৩০ কেজি ওজন

মাত্র ১০ মাস বয়সে তার ওজন ৩০ কেজির বেশি। লুইস মেনুএল নামের এই শিশু এক অজানা রোগে ভুগছে, যার ফলে দিনদিন তার ওজন শুধু বেড়েই চলেছে। ডাক্তারগণ শিশুটির মা-বাবাকে জানিয়েছেন যে, তাদের শিশু Prader-Willi syndrome (PWS) নামের এক রোগে ভুগছেন।


পশ্চিম মেক্সিকোর কলিমা শহরের ডাক্তার দেখানোর পর এই বিরল রোগের খবর পান লুইসের মা-বাবা। তবে আসলেই এই রোগ তাকে গ্রাস করছে কিনা, তা নিয়েও শতভাগ নিশ্চিত নন তিনি। লুইসের মা-বাবা ছেলের চিকিৎসার জন্য সকলের কাছে সাহায্য চেয়েছেন, কারণ এই রোগের খরচ বহনের জন্য প্রচুর টাকার প্রয়োজন। তারা এজন্য একটি ব্যাংক একাউন্ট খুলেছেন, এবং সকলের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেছেন।


লুইসের আসলেই PWS রোগ হয়েছে কিনা, তা জানতে ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। তবে এখনও সব পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যায়নি। রিপোর্ট আসার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করা হবে।


এই রোগের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হরমোনাল ইনজেকশন প্রদান করা হবে। প্রতিটি ইনজেকশনের জন্য বাংলাদেশী টাকায় ৪৫ হাজার টাকা দিতে হবে। লুইস জন্মের সময় সাড়ে ৩ কেজি ওজন নিয়ে জন্মেছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে তার ওজন ভায়ানকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে।


লুইসের মা ইসাবেল পান্তোজা বলেন, লুইসের জন্মের মাত্র এক মাসের মাথায় তারা লক্ষ্য করেন যে, তার কোন পোশাক ই আর গায়ে লাগছে না। সব সাইজে যেন ছোট হয়ে গেছে। তখনি তার জন্য ১ বা ২ বছর বয়সী বাচ্চাদের সাইজের কাপড় কিনে এনে পড়াতে হত।


তিনি আরও জানান, তখন থেকেই তাদের শিশুর খুব দ্রুত ওজন বাড়তে থাকে। মাঝে মাঝে লুইসের অতিরিক্ত ওজনের কারণে ঘুমাতে কষ্ট হত। এখন মাত্র ১০ মাস বয়সের মাথায় তার ওজন ৯ বছর বয়সী শিশুদের সমান।


PWS রোগটি মূলত জীনগত সমস্যার কারণে হয়ে থাকে। এই রোগের কারণে বারবার ক্ষুধা লাগে, ওজন বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিক হয়ে যায়। ডাঃ টেকোমানের মতে, মেক্সিকোতে এরকম রোগী এই প্রথমবারের মত দেখা যাচ্ছে।


এরকম রোগে বেশীরভাগ সময়ই রোগী হার্ট অ্যাটাকে মারা যায়।


-সূত্রঃ মেট্রো।