আনারস নাকি তরমুজ?

সাস্থ্যকথা/হেলথ-টিপস April 19, 2017 552
আনারস নাকি তরমুজ?

প্রখর রোদ্দুর সত্ত্বেও গ্রীষ্মের একটি মজার দিক হলো বিভিন্ন মৌসুমি ফল। এ সময়টা বাজারে গেলেই দেখা যায় নানা ধরনের ফল সাজানো। এত সব ফলের মধ্যে আনারস ও তরমুজও বাদ যায় না। গ্রীষ্ম ছাড়াও বছরের অন্যান্য সময় আনারস পাওয়া গেলেও তরমুজের সময়কাল মূলত এটিই।


আমরা সবাই-ই এ দুটো ফল কম-বেশি খেয়ে থাকি। কিন্তু এ দুটো ফলের কোনটির মধ্যে কী পুষ্টিগুণ আছে, সে বিষয়ে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদ আখতারুন্নাহার আলো।


তরমুজ

১. এতে ৯০ শতাংশেরও বেশি পরিমাণে পানি থাকে, যা পানিশূন্যতা রোধ করবে।


২. এতে রয়েছে অ্যামিনো অ্যাসিড, যা ত্বকের কোলাজেন নামক উপাদান বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।


৩. এতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আর এ রয়েছে, যা আপনার ক্লান্তি কাটিয়ে উঠতে এবং চোখের দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখতে সহায়তা করে।


৪. তরমুজে সুকরোজ, গ্লুকোজ ও ফ্রুকটোজ থাকে, যার প্রতিটিই মিষ্টি উপাদান। তাই বহুমূত্র রোগীদের পরিমিত পরিমাণে এটি খাওয়া উচিত।


৫. অনেকেই রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করে তরমুজ খেয়ে থাকেন। তবে এটি কখনোই একদিনের বেশি হওয়া উচিত নয়। কেননা তরমুজে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত সংক্রমিত হয়।




আনারস

১. আনারসেও প্রচুর পরিমাণে পানি রয়েছে, তবে তা তরমুজের তুলনায় কম।


২. এতে ভিটামিন এ, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম থাকা সত্ত্বেও ভিটামিন সি-এর পরিমাণ বেশি। এ কারণে খালি পেটে আনারস একেবারেই খাওয়া ঠিক নয়। কেননা এতে করে ডায়রিয়া ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দিতে পারে।


৩. ঠান্ডাজ্বর, গলাব্যথায় আনারস উপকারী হলেও অতিরিক্ত গরমে আনারস অনেক সময় বদহজমের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে কাঁচা-পাকা আনারস অতিরিক্ত না খাওয়াই ভালো। আর গর্ভবতী মায়েদের আনারস একদমই খাওয়া উচিত নয়।


৪. আনারসের চোখে ব্রোমেলাইন নামে এক ধরনের উপাদান থাকে, যার কারণে আপনার অ্যালার্জি, এমনকি শ্বাসকষ্টও হতে পারে।


৫. তবে যাদের বাতের ব্যথা রয়েছে, তাদের প্রতিদিন অন্তত এক টুকরো হলেও আনারস খাওয়া উচিত।


তুলনায় দুটি ফলেরই বিভিন্ন পুষ্টিগুণ রয়েছে। আনারসেরও নানা উপাদান, যেমন ভিটামিন সি থাকায় এটি টিউমার ও ক্যানসার রোধে সাহায্য করে। আবার তরমুজের তুলনায় এটি বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায়। তবে অতিরিক্ত কিংবা খালি পেটে এটি না খাওয়াই ভালো। কেননা এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে।


একইভাবে তরমুজও খালি পেটে খাওয়া উচিত নয়।


আখতারুন্নাহার আলো মনে করেন, দুটি ফলই প্রয়োজন। তবে কে কোনটি খাবে, তা পুরোটাই নির্ভর করবে ব্যক্তির বয়স, হজমশক্তির ওপর।